দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রাথমিকের স্থগিত বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে চার দিনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। পঞ্চম শ্রেণির পূর্ণ সিলেবাসে পাঁচ বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে ফল প্রকাশ ও বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে পৃথক কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন— বাংলা, ইংরেজি ও গণিত: ৩০০ নম্বর, বিজ্ঞান: ৫০ নম্বর, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: ৫০ নম্বর। এতে শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণির পূর্ণ সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, “সময় অত্যন্ত সীমিত। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রসংকট এড়াতে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। এটি মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা হওয়ায় নম্বর বা বিষয় কমানোর সুযোগ নেই।”
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
এর মধ্যে— ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাবে, ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক আর্থিক সুবিধাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: মাসিক ৩০০ টাকা, সাধারণ বৃত্তি: মাসিক ২২৫ টাকা এ ছাড়া উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা করে পাবে।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হলে বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন–সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিভাবক হাইকোর্টে রিট করেন। পরে আদালত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধারার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলে পরীক্ষার কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে হয়।
শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, একই দেশের নাগরিক হিসেবে বেসরকারি শিক্ষার্থীদেরও এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের জন্য একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।