এ কে এম সুমন: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে তেলের দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহের চেয়েও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
আর বিশ্বকে চাপে রাখতে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৬ ডলার পর্যন্তও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশের বাজারের এখনো কোন প্রভাব না পড়লেও কৃত্তিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেশ কিছু জ্বালানি তেলে পাম্প ঘুরে দেখা গেছে অন্যান্য দিনের তুলনায় চাপ বাড়লেও এখনি দাম বাড়া বা সংকটের সম্ভাবনা নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ক্রেতাদের মধ্যে ভুল তথ্যের ফলে অনেকেই প্রয়োজনের চাহিদার বেশি জ্বালানি নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে জানানো হয়েছে দেশে কোন জ্বালানি তেলে সংকট নেই। এই মুহুর্তে দাম বাড়ানোরও কোন সম্ভাবনাও। এই সংঘাতের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চলতি বছরে তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছিল।
ইরানের তেল উৎপাদন বিশ্ব চাহিদার ৫ শতাংশেরও কম হলেও বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে।