ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস হয়নি। রিপাবলিকানদের বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটি ৪৭–৫২ ভোটে বাতিল হয়ে গেছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল বিদেশের মাটিতে প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা। তবে রিপাবলিকানদের সমর্থনে ট্রাম্পের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেয়েছে।
সিনেটে প্রস্তাবের সমর্থকরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর টিম কেইন বলেন, প্রশাসন এখনো এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি যা থেকে বোঝা যায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি হুমকি না থাকলে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের—এই যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটররা ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, ইরানের দীর্ঘদিনের শত্রুতামূলক কার্যকলাপ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনাই এই হামলার পেছনের কারণ।
রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ বলেন, ইরান গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রেক্ষাপটেই নেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তবে যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি পাস না হলেও সিনেটে এই ভোটাভুটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে।
নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মতে, যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল-জাজিরা