মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

বাজারে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি সত্ত্বেও বাজারে হঠাৎ করে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত ও খোলা—দুই ধরনের সয়াবিন তেলই এখন অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তবে আমদানিকারকরা বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন সরিষা ও রাইসব্রান তেল দেশেই উৎপাদিত হয়। বাকি চাহিদার তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয় এবং বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু দোকানে ২ লিটারের বোতল মিললেও ১ লিটারের বোতল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

সরকার নির্ধারিত দামে বর্তমানে ৫ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের মূল্য ৯৫৫ টাকা হলেও অনেক জায়গায় তা ৯৭০ থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট খরচ বেড়ে গেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ায় বাজারেও প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে সরকার ভোজ্যতেলের ওপর যে ভ্যাট ও শুল্ক ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার খবরেও অনেক ব্যবসায়ী আগাম মজুদ বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে সংরক্ষণ করছেন। এতে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মিলগেট থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) উপপরিচালক শাহাদাত হোসেন জানান, সারা দেশে প্রতিদিন ৪৫০টি ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, যেখানে একজন ক্রেতা ২ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন।

তবে বাজারে কোনো প্রকৃত সংকট নেই বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সচিবালয়ে আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের আতঙ্কিত হয়ে বেশি কেনার প্রবণতার কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি ভোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, “অযথা আতঙ্কিত হয়ে বেশি কেনাকাটা করার প্রয়োজন নেই। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।”

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদারকি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com