মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

  • সবশেষ আপডেট : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ জন সংবাদটি দেখেছেন

আরএনবি ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘ব্রোকেন অ্যারো’—অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা—এ ধরনের মোট ৩২টি ঘটনার মধ্যে এই ছয়টি বোমার অবস্থান আজও নিশ্চিত করা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো কোনোভাবে শত্রুপক্ষের হাতে পড়ে যেতে পারে কি না—তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডুমসডে প্লেন’ও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব বিমান মূলত পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে আকাশ থেকেই সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য নকশা করা।

মার্কিন অবস্থান হলো—যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই বোমাগুলোর অবস্থান খুঁজে পায়নি, তাই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষেও সেগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রের গভীরে বা দুর্গম স্থানে পড়ে থাকা এই মারণাস্ত্রগুলো উদ্ধার করা গেলে তা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

নিখোঁজ পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইবি দ্বীপের কাছে। সে সময় একটি বি–৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝ আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তার কারণে ‘মার্ক–১৫’ ধরনের একটি হাইড্রোজেন বোমা সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালানো হলেও সেই বোমার কোনো হদিস মেলেনি।

এ ছাড়া গত কয়েক দশকে আরও কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্র দুর্ঘটনার কারণে সমুদ্রের তলদেশ বা দুর্গম অঞ্চলে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যে এসব হারানো অস্ত্র নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় যদি কোনো রাষ্ট্র সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব অস্ত্রের সন্ধান পায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিকায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো অস্ত্রের ঝুঁকি—দুই মিলিয়ে বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

সূত্র: মিরর ইউএস

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com