ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে রংপুর চিড়িয়াখানা। প্রাকৃতিক পরিবেশ, নানা প্রজাতির প্রাণী আর বিনোদনের সুযোগ মিলিয়ে দিনভর ঘোরার জন্য এটি হতে পারে একটি উপযুক্ত গন্তব্য।
চিড়িয়াখানায় প্রবেশের শুরুতেই দেখা মেলে বিশাল আকৃতির জলহস্তীর। পানিতে নেমে তাদের জলকেলি আর রোদ পোহানোর দৃশ্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এরপর ভেতরে এগোতেই সারি সারি খাঁচায় দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি। বানরের দুষ্টুমি, পাখির কিচিরমিচির আর দর্শনার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
কিছুটা এগোলেই চোখে পড়ে সুন্দরবনের বিখ্যাত চিত্রা হরিণ। শিংওয়ালা এই হরিণগুলো চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া এখানে রয়েছে কুমির, অজগর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি।
চিড়িয়াখানার আরেকটি বড় আকর্ষণ সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সম্প্রতি বাঘ দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া শাবকগুলো দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে এগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।
এছাড়া চিড়িয়াখানায় রয়েছে ‘রাজা-রানী-শান্তা’ নামে পরিচিত তিন গাধার পরিবার, যা শিশুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাদের ঘিরে ছোটদের মধ্যে কৌতূহলও লক্ষ্য করা যায়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ঈদকে সামনে রেখে পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে দর্শনার্থীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, আরও নতুন প্রাণী সংযোজন করা হলে বিনোদনের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে।
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে স্বল্প খরচে পরিবার নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে রংপুর চিড়িয়াখানা হতে পারে একটি চমৎকার পছন্দ।