কৃষি মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘সার নীতিমালা ২০২৫’ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)-এর রংপুর জেলা ইউনিট। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতারা।
তাদের দাবি, নতুন নীতিমালায় অভিজ্ঞ ও নিবন্ধিত সার বিক্রেতাদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সার সরবরাহে জটিলতা তৈরি করে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত চার দশক ধরে সরকার ও বেসরকারি বিক্রেতাদের সমন্বয়ে সার বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্রেতা নির্বাচনে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। ফলে সার বিক্রির প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে— যা কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আশঙ্কা, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন বিক্রেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে বাজারে সার সংকট দেখা দিতে পারে।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— “নীতিমালাটি স্থগিত রেখে কৃষি মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।”
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), ইউরিয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সার বিতরণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিজ্ঞ বিক্রেতারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও মৌসুমি চাহিদা বুঝে কাজ করে আসছেন। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে সেই কার্যপ্রণালী ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রংপুর জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, “আমরা সব সময় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করি। কিন্তু এই নীতিমালা আমাদের মতামত ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে কৃষক ও সার ব্যবসায়ী— উভয়েরই ক্ষতি হবে।”
স্মারকলিপির অনুলিপি কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রংপুর অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা সতর্ক করেছেন, দাবি দ্রুত বিবেচনা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।