ঈদের পর নতুন মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন নজরুল ইসলাম। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের খবর শুনে আপাতত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পছন্দের ২৫০ সিসির মোটরসাইকেল কেনার আশা থাকলেও কবে নাগাদ সংকট কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রংপুর নগরীর একটি মোটরসাইকেল শোরুমে কথা হয় নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, বিয়ের পরদিনই নতুন মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তেলের সংকট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এখন আর সেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
তার ভাষ্য, “বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল পাওয়া কঠিন। আবার কাগজপত্র না থাকলে পথে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই আপাতত মোটরসাইকেল কেনা স্থগিত রেখেছি।”
শুধু নজরুল ইসলাম নন, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকেই। কেউ শখের বশে, কেউ প্রয়োজনের তাগিদে মোটরসাইকেল কিনতে চাইলেও জ্বালানি সংকট তাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে। বিক্রেতারা বলছেন, আগে যেখানে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, এখন অনেক দিনই কোনো বিক্রি হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে সংকট তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর।
পেশাগত কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন গণমাধ্যমকর্মী শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, আগের মতো সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, তাও দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কখনো আবার তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে।
সোমবার সকাল থেকে রংপুর নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল সংগ্রহ করতে পারেননি। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেখানেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন পাম্পে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে একাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজের জন্য বিআরটিএ অফিসেও ভিড় বেড়েছে। অনেকেই এখন নিয়ম মেনে কাগজপত্র ঠিক রাখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা শোরুমে এলেও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জেলার প্রতিটি পাম্পে কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।