আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তরুণ প্রার্থীদের বেশি মনোনয়ন দেওয়া এবং সহযোগী দল এনসিপিকে আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ঢাকা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে তরুণ প্রার্থী বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি দীর্ঘদিনের সংগঠন হওয়ায় অনেক অভিজ্ঞ সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগের বয়স ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। তবে সময়ের পরিবর্তনে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের রুচি ও প্রত্যাশা ভিন্ন হওয়ায় এবার তরুণদের প্রাধান্য দিতে চায় দলটি।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যারা তখন ১৮ বছরের নিচে ছিলেন, এখন তাদের বয়স প্রায় ৩৫। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৬০ শতাংশই তরুণ শ্রেণির। বিএনপির অভ্যন্তরীণ জরিপ ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন। দলের কৌশলবিদদের মতে, এই অনিশ্চিত ভোটারদের বেশিরভাগই তরুণ, তাই তরুণ প্রার্থীরা তাদের কাছ থেকে বেশি সাড়া পেতে পারেন।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল তেমন সফল হতে পারেনি। তাই তরুণদের আস্থা পুনরুদ্ধারে এবার মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী এবং ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত তরুণ নেতাদের প্রার্থী করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে দলীয় অর্থায়নে তরুণ প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিএনপি নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–কে নির্বাচনি জোটে যুক্ত করতে চায়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপিকে প্রায় ২০টি আসন ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অন্তত ৮টি আসনে বিএনপির পূর্ণ সমর্থনে এনসিপি প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে দলটি। বাকি ১২টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা কম হলেও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে রেখে বৃহত্তর জোট গঠনের স্বার্থে বিএনপি সেখানে ছাড় দিতে আগ্রহী।