জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে পরিবারের অসন্তোষ, অন্যদিকে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নিহত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলে হত্যার ঘটনায় যারা নির্দেশ দিয়েছে, সেই বড় কর্মকর্তারা বেঁচে গেছে।” তিনি এ ঘটনায় জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড শুধু কনস্টেবলের ওপর চাপানো হয়েছে। প্রকৃত দায়ীদের বিচার হয়নি।” পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. শওকাত আলী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আদালত বিভিন্ন ধারায় কাউকে মৃত্যুদণ্ড ও কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও, কিছু ক্ষেত্রে লঘুদণ্ডের বিষয়টি নিয়ে মতামত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে আবু সাঈদের সহপাঠী, সাক্ষী এবং ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের সন্তুষ্টিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইভাবে পরিবারের সন্তুষ্টিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শেষে একাধিক আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ডও রয়েছে।