মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

রাজনীতি নিষিদ্ধ বেরোবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবিরের কর্মসূচি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি চলতে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দুই দিনব্যাপী নববর্ষ প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর বেরোবি শাখা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু ছাত্রশিবিরই নয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সহ বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও এসব কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে দেখা গেছে।

গত ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে একটি রাজনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর আগে ৮ মার্চ ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, “শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতেই রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অতীতে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে এ সিদ্ধান্ত আসে। এখন কিছু গোষ্ঠী সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে, যা আমরা মেনে নেব না।”

অন্যদিকে ছাত্রদল সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, “একটি সংগঠনের অপকর্মের দায়ে পুরো ক্যাম্পাসে সুস্থ ছাত্ররাজনীতি বন্ধ রাখা উচিত নয়। গঠনমূলক রাজনীতি চালু হওয়া প্রয়োজন।”

ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সুমন সরকার বলেন, “আমরা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। তবে অন্যরা নিয়ম ভাঙলে আমাদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব।”

এদিকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com