চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি তেলের পাম্পে মোটরসাইকেলে জ্বালানি সংগ্রহের সময় এক পুলিশ সদস্যকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত ওই পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় পাম্পে তেল নিতে গেলে তাঁকে জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহ।
তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার জামাল আল নাসের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল— জরুরি সেবায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকরা বিকল্প লাইনে জ্বালানি নিতে পারবেন।
জেলা পুলিশের দাবি, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এতদিন সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলোতে বিকল্প লাইনের সুবিধা ব্যবহার করে জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করায় বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা কাজ করছে। জ্বালানি সংকটের মতো পরিস্থিতিতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, যাতে জরুরি সেবাগুলো বিঘ্নিত না হয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ছুটিতে থাকায় প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ঘটনাটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী যাচাই করা হচ্ছে এবং জেলা পুলিশের বক্তব্যও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ঘটনাটি এখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।