বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব যখন দেশীয় বাজারেও চাপ তৈরি করছে, ঠিক তখনই স্বস্তির খবর এসেছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি থেকে। উৎপাদন বাড়াতে একসঙ্গে একাধিক কূপ খনন ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রে মোট ৩৪টি কূপের মধ্যে ১৭টি থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২–১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৯টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫টি কূপের খনন কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৪টির কাজ চলমান। পাশাপাশি আরও ৮টি কূপে ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কার্যক্রমের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে, যা শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চলমান চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
গ্যাসের পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড। এছাড়া আন্তর্জাতিক কোম্পানি Chevron ও Tullow Oil থেকে আরও ৬,০০০–৬,৫০০ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে।
এই কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে রশিদপুর রিফাইনারিতে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে—
এসব জ্বালানি সরবরাহ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর অধীন বিপণন কোম্পানিগুলো।
বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি দিয়ে দেশের—
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে। নতুন কূপ খননের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও দেশের গ্যাস মজুত সীমিত হওয়ায় বড় ধরনের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। তাই দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্র এলাকায় (অফশোর) অনুসন্ধান জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের নতুন উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে পুরো সংকট দূর না করলেও, সরবরাহ বাড়াতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে শিল্প খাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমাতে এই প্রকল্প ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।