জুলাই আন্দোলনের ‘জাতীয় সনদ’ শতভাগ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই বাস্তবায়ন হবে বিএনপির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতিতে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও গণভোটের চারটি প্রশ্নের একটিতে বিএনপির আপত্তি ছিল, তবুও জনরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দলটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়।
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে আমরা এই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করব, তবে তা হবে আমাদের মতো করে।”
সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রধান কেন্দ্র সংসদ। তাই সেখানে তর্ক-বিতর্ক থাকা স্বাভাবিক এবং তা সংসদকে প্রাণবন্ত করে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সংসদকে কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে সদস্যদের প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ তৈরি।‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি প্রচলিত আইন বা বিধির আওতায় পড়ে না। তাই আইনগত ভিত্তিহীন কোনো আদেশ সংসদে পাস করা উচিত নয়। তবে সংসদের মাধ্যমেই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা।
নুরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, “আমরা দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছি, যেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নেই এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর জামিন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি আইনের শাসনের উদাহরণ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিচার চায়, তবে তা যেন প্রতিহিংসামূলক না হয়। “প্রচলিত আইনে যে শাস্তি প্রাপ্য, সেটিই নিশ্চিত করতে চাই,” যোগ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে উপস্থিতি প্রায় শতভাগ এবং পরিবেশ সুশৃঙ্খল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিয়মিত উপস্থিতি অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।