মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

পেটের তাগিদে মে দিবসও তুচ্ছ, বৃষ্টিতেও কাজের খোঁজে দিনমজুর

  • সবশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

মহান মে দিবস—শ্রমিক অধিকারের প্রতীকী দিন। তবে বাস্তবতায় এই দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজের আশায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে হাজারো দিনমজুরকে। পেটের তাগিদে তাদের কাছে দিবসটির আলাদা কোনো গুরুত্ব নেই।

শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর, ফকিরাপুল, বাড্ডা, রামপুরা ও নতুন বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে জড়ো হয়েছেন। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে হাতুড়ি কিংবা ঝুড়ি—কাজের আশায় অপেক্ষা করছেন তারা।

মিরপুর-১ নম্বর মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে প্রতিদিনের মতো সকাল সাতটার পর থেকেই শ্রমিকদের ভিড় বাড়তে থাকে। আটটার মধ্যে শতাধিক শ্রমিক জড়ো হন। রাজমিস্ত্রি, জোগালি, রংমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রিদের অনেকেই কাজের অপেক্ষায় থাকলেও সবার ভাগ্যে কাজ জোটে না।

রংমিস্ত্রি কামাল মিয়া বলেন, শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও কাজ বাড়েনি। এখন দুই-তিন দিন অপেক্ষা করে একদিন কাজ পাওয়া স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

ফকিরাপুল পানির ট্যাংকের পাশেও একই চিত্র। প্রতিদিন ৩০০–৪০০ শ্রমিক এখানে জড়ো হন। তবে অধিকাংশকেই সপ্তাহে তিন-চার দিন বেকার থাকতে হচ্ছে, কেউ কেউ টানা এক সপ্তাহও কাজ পাচ্ছেন না।

কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা দিনমজুর আল আমিন জানান, প্রতিদিন ভোরে এসে দাঁড়ালেও অনেক দিন কাজ পান না। মাসে আয় ১০–১২ হাজার টাকার বেশি নয়, অথচ সংসার চালাতে লাগে ১৬–১৮ হাজার টাকা। ফলে ধার-দেনা করেই চলতে হচ্ছে।

টাইলস মিস্ত্রি সোহাগ মিয়া বলেন, নির্মাণ খাতে মন্দার কারণে কাজ কমে গেছে। পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে তিনি ঢাকায় মেসে থাকেন। কাজ পেলেই টাকা পাঠান, না হলে খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

নারী শ্রমিকদের অবস্থাও ভিন্ন নয়। মিরপুর এলাকায় প্রতিদিন ৩০–৪০ জন নারী শ্রমিক কাজের আশায় আসেন। জামিলা খাতুন জানান, সপ্তাহে দুই-তিন দিন কাজ পান। মাসে সাত-আট হাজার টাকার বেশি আয় হয় না, যা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।

বাড্ডা এলাকার শ্রমিক হোসেন মিয়া বলেন, টানা কয়েক দিন বেকার থাকার পর কাজ মিললেও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।

এদিকে বৃষ্টির মধ্যেও সকাল থেকে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বিভিন্ন এলাকায় কাজের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা জানান, কাজ না পেলে সেদিনের খাবার জোটে না। মজুরিও নির্ভর করছে দরকষাকষির ওপর—সকালে যেখানে ৪০০–৬০০ টাকা পাওয়া যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে ৩০০ টাকায় নেমে আসে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্য বাড়লেও আয় বাড়েনি; বরং নির্মাণ খাতে মন্দা, গ্রাম থেকে শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিকল্প আয়ের পথ কমে যাওয়ায় তাদের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের হে মার্কেট আন্দোলন-এর স্মরণে পালিত মে দিবস বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকারের প্রতীক হলেও দেশের অনেক দিনমজুরের কাছে এটি এখনও আরেকটি সংগ্রামের দিন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com