চোখ বাঁধা অবস্থায় মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে বিশ্বরেকর্ড গড়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তরুণ সিফাত আকন (১৮)।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা সিফাত আকন চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলে তার রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
সিফাত জানান, চার বছর আগে একটি পত্রিকায় গিনেস রেকর্ড নিয়ে প্রতিবেদন দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে খোঁজখবর নিতে গিয়ে বুঝতে পারেন, বাংলাদেশ থেকেও অনেকে রেকর্ড গড়েছেন। তখন থেকেই নিজেও কিছু করার পরিকল্পনা শুরু করেন।
করোনাকালে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে ভিন্ন কিছু করার ভাবনা থেকে এই চ্যালেঞ্জ বেছে নেন তিনি। শুরুতে ১০টি মাস্ক পরতে সময় লাগত ২৫ থেকে ২৬ সেকেন্ড। তবে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনেন।
তিনি বলেন, “চোখ বাঁধা থাকায় মাস্ক খুঁজে নেওয়া কঠিন ছিল। আবার দ্রুত সঠিকভাবে পরাটাও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নিয়মিত অনুশীলন আর পরিবারের উৎসাহ আমাকে এগিয়ে নিয়েছে।”
রেকর্ড গড়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সিফাত বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য ও গাইডলাইন পাওয়া সবচেয়ে কঠিন ছিল। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছে।
সিফাতের মা বেগম সুরমা বলেন, “ছেলের এই অর্জনে আমরা খুবই খুশি। সামনে সে আরও রেকর্ড গড়তে চায়।” ভবিষ্যতে এক মিনিটে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে জড়িয়ে ধরা এবং সর্বোচ্চ ‘হ্যান্ডশেক’ করার রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
বাবা আবদুল জলিল আকন, যিনি বনরক্ষী হিসেবে কর্মরত, বলেন, “ছেলের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশা করি।”
স্থানীয়দের মতে, টানা নয় মাস কঠোর পরিশ্রম করেছেন সিফাত। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করলেও এখন তারাই উৎসাহ দিচ্ছেন।
ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, “সিফাত আমাদের এলাকার গর্ব। তার এই সাফল্য অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করবে।”
উচ্চমাধ্যমিক পাস করা সিফাত ভবিষ্যতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে চান। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে আরও নতুন রেকর্ড গড়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ।