পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের একদিন পর ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত চিত্রনায়িকা সুলতানা রোজ নিপাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শিক্ষার্থীর পরিবার।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, মো. আব্বাস আলী ওরফে আকাশ (৩৫), তার বড় বোন সুলতানা রোজ নিপা (৩৮) এবং দেবীগঞ্জ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফজিলা বেগম (৩৫)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে ছুটির পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা স্কুলে যোগাযোগ করেন। পরে জানা যায়, সে সেদিন স্কুলেই যায়নি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীর বাবা দেবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ সময় তার মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা নিজেকে আকাশ পরিচয় দিয়ে বলেন, “আপনার মেয়ে আমার কাছে এসেছে, আমি তাকে বিয়ে করেছি।”
পরে নম্বরটি ট্রু-কলারে শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, সেটি মো. আব্বাস আলী ওরফে আকাশের। তার স্থায়ী বাড়ি নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর হাজিরহাট এলাকায় এবং বর্তমান ঠিকানা ঢাকার বাড্ডা।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার বাড্ডা থানার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার একটি বাসা থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষার্থীর বাবা জামিরুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সে বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার।”
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আকাশ দেবীগঞ্জে ভাড়া ভেকু মেশিন কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন এবং স্থানীয়ভাবে বসবাসের সময় শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিখোঁজের জিডির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।