পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে একাই যেন লড়াই করলেন লিটন দাস। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় বিপর্যয়ের মুখেও সম্মানজনক সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। শুরুতেই আঘাত হানেন পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন মাহমুদুল হাসান জয়কে।
এরপর অভিষিক্ত তামিমকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মুমিনুল হক। তবে দলীয় ৪৪ রানে তামিম এবং ৬৩ রানে মুমিনুল আউট হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তামিম ৩৪ বলে ২৬ এবং মুমিনুল ৪১ বলে ২২ রান করেন।
চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ব্যাটে ভর করে লাঞ্চের আগে ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১ রান তোলে বাংলাদেশ।
তবে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ রান করে বিদায় নেন। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়েন লিটন দাস। তাইজুল ইসলাম-কে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাইজুল ১৬ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান লিটন।
দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৫৯ বলে ১২৬ রান করে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট ও দৃঢ় মানসিকতার ছাপ।
শেষ পর্যন্ত ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম, তিনি করেন ১২ রান।
পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ চারটি, মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি, হাসান আলী দুটি এবং সাজিদ খান একটি উইকেট নেন।
২৭৮ রান খুব বড় সংগ্রহ না হলেও ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর যে অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ, সেখানে লিটনের এই সেঞ্চুরি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।