পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন খামারে চলছে গরুর পরিচর্যার ব্যস্ততা। এরই মধ্যে অভয়নগর উপজেলার দুটি পারিবারিক খামারের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটির নাম ‘নেইমার’, অন্যটির নাম ‘ঠাণ্ডা ভোলা’।
উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ভাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রামের খামারি দেবু পাড়ের খামারে লালন-পালন করা হচ্ছে প্রায় ৩৫ মণ ওজনের ‘নেইমার’ নামের একটি ষাঁড়। মাথার সামনের চুলের বিশেষ আকৃতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার-এর স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় শখ করে এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান খামারি।
খামারি দেবু পাড়ে জানান, ফ্লেকভি জাতের ষাঁড়টির বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে গরুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার লাগে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও খুদ চালের ভাত।
তিনি আরও জানান, তাদের খামারে বড়-ছোট মিলিয়ে মোট ছয়টি গরু রয়েছে। তবে বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাবের কারণে ‘নেইমার’ সবার নজর কাড়ছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন।
দেবু পাড়ে বলেন, এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। আশা করছেন ঈদের আগেই ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। আগ্রহীরা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে দরদাম করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এত বড় গরুকে দড়ি ছাড়া নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখা সত্যিই বিস্ময়কর। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টির দেখাশোনায় দেবুর সবচেয়ে বড় সহায়ক তার মা ইতি।
এদিকে ‘নেইমার’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুটির ওজন ও সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক খামারি পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় আকারের গরু প্রস্তুত করেছেন।