চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেওয়ানি মামলা করেছেন জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের প্রার্থীরা।
রোববার (১৭ মে) চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম সিভিল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন জামায়াত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের আটজন প্রার্থী। মামলায় মোট ৩৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলাটি গ্রহণ করে আদালতের বিচারক আরফাতুল রাকিব আগামী ১৯ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
জামায়াত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা বেআইনিভাবে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার দাবি, মনগড়াভাবে প্রার্থী নির্ধারণ ও পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মামলায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও বর্তমান সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অতিরিক্ত মনোনয়ন ফি নির্ধারণ, ভোটার তালিকা সরবরাহ না করা এবং মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পদপ্রার্থী সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী নেজাম উদ্দিন নেজামসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী।
বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী চৌধুরী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের মনোনয়নপত্রের মূল্য ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাদীপক্ষ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা বাবদ টাকা নেওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ নির্বাচনসংক্রান্ত কয়েকটি কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।