চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং বাস ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন শ্রমিকরা।
বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার সংলগ্ন একটি স্কুল মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত মাঠে পার্কিং করে রাখা বাসগুলোর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ১৫টি বাস ভাঙচুর করা হয়। হামলা ঠেকাতে গেলে প্রায় ২০ জন শ্রমিক আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না। আকস্মিক এ পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আহত শ্রমিকরা জানান, রাতে বাসের ভেতরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ সময় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল হামলাকারী বাসে হামলা চালায়। তারা বাসের কাচ ও বডি ভাঙচুরের পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের মারধর করে।
বোগদাদ পরিবহনের সুপারভাইজার ইউসুফ ও শ্রমিক ওমর ফারুকসহ অন্যরা জানান, এ ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। দাবি পূরণ না হলে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের কোনো বাস সড়কে নামানো হবে না।