মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ডের রায়। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার।
আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন বলেন, “মেয়েটা অনেক আগেই মারা গেছে, কিন্তু এখনো খুনির ফাঁসি দেখলাম না।”
গত বছরের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। বিচারিক আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কবে রায় কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে ছোট্ট টিনের ঘরে এখনো মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটছে আছিয়ার মায়ের। তিনি জানান, ঘটনার পর অনেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। একটি গাভির দুধ বিক্রি করেই চলছে তাদের সংসার।
আয়েশা খাতুন বলেন, “খুনি জেলে বসে ভালো আছে, আর আমরা প্রতিদিন কষ্ট নিয়ে বাঁচছি। এত দেরি হলে ভয় হয়, শেষে যদি বিচারই না পাই।”
২০২৫ সালের ৫ মার্চ বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামি হিটু শেখের করা আপিল বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারা দ্রুত শুনানি শেষে রায় কার্যকরের আশা করছেন।
এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আলোচিত মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।