রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় টানা দুই দফা কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে চার শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন। এতে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ভোরে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরেও একই ধরনের ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের দাবি, দুই দফা ঝড়ে অন্তত আট শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘুমন্ত মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং গাছপালা ভেঙে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার দামোদরপুর ও মধুপুর ইউনিয়নে।
দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, কালাপানি, ইন্দিরাপাড়া, আমরুলবাড়ি ও সিংহিমারীসহ কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন শতাধিক ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। পাশাপাশি শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আলম ভুট্টু জানান, বৃহস্পতিবার ও রোববারের ঝড়ে তার ইউনিয়নের চার শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বদরগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পাল বলেন, দুই দফা ঝড়ে অন্তত ৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঁচটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সব ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহ শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।