সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

যেখানে দুধমা হযরত হালিমা (রা.)-এর স্নেহে বেড়ে উঠেছিলেন বিশ্বনবী ﷺ।

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৭৯ জন সংবাদটি দেখেছেন

এই সেই ধুলোমাখা পাহাড়ি পথ…যে পথে হেঁটেছিলেন ছোট্ট মুহাম্মদ ﷺ। এই সেই নির্জন উপত্যকা…যেখানে দুধমা হযরত হালিমা (রা.)-এর স্নেহে বেড়ে উঠেছিলেন বিশ্বনবী। আজও সেই পাহাড় আছে। আছে ভাঙাচোরা সেই ঘরের চিহ্নও।

কিন্তু প্রশ্ন হলো…মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ পরিবার তাদের সন্তানদের কেন পাঠিয়ে দিতো এই নির্জন মরু উপত্যকায়? আর আজ কেমন আছে মা হালিমার সেই ঘর? চলুন…আজ আমরা ফিরে যাই দেড় হাজার বছর আগের সেই স্মৃতিবিজড়িত পথে। মক্কার ঝলমলে অট্টালিকা পেছনে ফেলে যখন গাড়ি এগোতে থাকে তাইফের দিকে… তখন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে প্রকৃতি। রুক্ষ পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে চলে ধুলোমাখা পথ। আর সেই পথের প্রতিটি ধূলিকণা যেন ইতিহাসের সাক্ষী। কারণ…এই পথ ধরেই একদিন মা হালিমা কোলে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ছোট্ট মুহাম্মদ ﷺ-কে।

সৌদি আরব বললেই চোখে ভেসে ওঠে মরুভূমি। কিন্তু তাইফ যেন এক অন্য জগৎ। সবুজ পাহাড়। আঙুরের বাগান। ডালিম, ডুমুর আর শীতল বাতাস। মরুর বুকের এই শান্ত শহরেই কেটেছিল নবিজি ﷺ-এর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়।

পাহাড়ি পথে চলতে চলতে হঠাৎ চোখে পড়ে এক পাল ভেড়া। আর তখনই মনে পড়ে যায়… এই রকম কোনো প্রান্তরেই হয়তো ছোট্ট মুহাম্মদ ﷺ ভেড়া চরিয়েছেন। এই রকম রোদেই হেঁটেছেন। এই রকম ধুলোমাখা পথেই কাটিয়েছেন শৈশব। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

দূরে পাহাড়ের ওপরে দেখা যায় কিছু পাথরের ঘর। লোকমুখে পরিচিত… এটাই মা হালিমার বাড়ি। সেখানে পৌঁছাতে আজও পেরোতে হয় উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ। চারদিকে নীরবতা। শুধু পাহাড় আর ইতিহাসের নিঃশব্দ উপস্থিতি। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে মনে হয় যেন সময় থেমে গেছে। ভাঙাচোরা পাথরের দেয়াল। পুরোনো কবরের চিহ্ন। আর নিস্তব্ধ এক উঠান। এই উঠানেই হয়তো খেলেছেন বিশ্বনবী ﷺ। এই আকাশের নিচেই বড় হয়েছেন তিনি। ভাবতেই শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে।

অনেকেই জানেন না… সে সময় মক্কার সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো সন্তানদের দুধমায়ের কাছে পাঠাতো। কারণ মরুর খোলা পরিবেশে শিশুরা শুদ্ধ আরবি শিখতো।
শরীর হতো শক্ত ও সুস্থ। কিন্তু মা হালিমার জীবন তখন ছিল দারিদ্র্যে ভরা। দুর্বল গাধা। ক্ষুধার্ত উট। অভাব আর দুর্ভিক্ষ। তবুও তিনি এতিম শিশু মুহাম্মদ ﷺ-কে নিজের কোলে তুলে নিয়েছিলেন। আর ইসলামের ইতিহাস বলে… সেই মুহূর্ত থেকেই নেমে আসে বরকত।

মা হালিমার এই বাড়ি শুধু কিছু পাথরের দেয়াল নয়। এটি মুসলিম উম্মাহর আবেগের এক জীবন্ত ইতিহাস। কারণ এই মাটিতেই পড়েছিল প্রিয় নবীর ﷺ ছোট্ট কদম। আজও তাই এই পাহাড়ে দাঁড়ালে মনে হয়… হৃদয়ের একটা অংশ যেন এখানেই থেকে যায়।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com