পবিত্র ইদুল আজহা-র দিনেও রৌমারী উপজেলা ও রাজীবপুর উপজেলা-এ টানা সাড়ে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ঈদের বিনোদন উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর ৫টা থেকে দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।
রৌমারীর পারেরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইবরাহীম খলিল সরকার অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়মিত বিল নিলেও সঠিকভাবে বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ঈদের দিনে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এবং টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
তুরা জিরোপয়েন্ট সীমান্ত এলাকায় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে হাজারো দর্শনার্থী সেখানে ঘুরতে এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঠান্ডা পানি, দই, মিষ্টি ও আইসক্রিম বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন রৌমারী বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের এমন অনিয়ম চলছে। ঈদের দিনেও বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-র বিরুদ্ধে আঞ্চলিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন রাজীবপুর উপজেলার বাসিন্দা ও সাংবাদিক সুজন মাহমুদ। তার অভিযোগ, জামালপুর জেলার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হলেও কুড়িগ্রামের নদীবিচ্ছিন্ন এই দুই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ নিয়ে ‘লোকোচুরি’ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শেরপুর গ্রিড-এ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় বহু মানুষ তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেছে।