ঈদুল আজহাকে ঘিরে সড়কে যানজট, পশুবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এটিএম আজহার বলেন, এবারের ঈদ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়নি। ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষকে মাইলের পর মাইল যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। একই সময়ে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কারণে সড়কে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সরকার চাইলে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, কিন্তু তা হয়নি।”
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির কারণে বাজারে পণ্যের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়েছে।
সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের আমলাতন্ত্রে ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করার একটি প্রবণতা রয়েছে। এ কারণে অনেক সময় জনগণের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পায়।”
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, জনগণের সেবক হিসেবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করছে না। এ বিষয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ না নিলে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কথা বলেন এটিএম আজহার। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন।
ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।