নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার ভোরে উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের রুহিলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা নিয়ে কয়েক দিন ধরে রুহিলী গ্রামের যুবায়ের হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তালিকা প্রণয়নের সময় যুবায়ের হোসেনের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৪টার দিকে এ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে যুবায়ের হোসেন ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষই এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিছ মিয়া বলেন, “যুবায়ের হোসেন ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত নন। এ কারণে তার নাম তালিকায় রাখা হয়নি। তবে তার পরিবারের যেসব সদস্য কৃষিকাজ করেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”