গাইবান্ধায় কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমন হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহমিদ রুমন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত রোববার রাতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিহত রুমনের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। লাঠি, শাবল ও লোহার রড দিয়ে বাড়ির বারান্দা, ছাদ, চালা, গ্রিল ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
পরে হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে আসবাবপত্র, থালা-বাসন ও অন্যান্য মালামাল বের করে রাস্তায় স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দুটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারা। তবে পৌঁছানোর আগেই দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কলেজছাত্র হত্যার ঘটনার পর নিহতের স্বজন, স্থানীয় জনতা এবং কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। তারা দুটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাস্তায় এনে আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করেছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে রুমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত পরিবারের দুই সদস্য, মা ও বোন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পৃথক মামলা দায়ের হয়নি।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী রেলস্টেশন এলাকার পেয়ারাপুর গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ফাহমিদ রুমন। তিনি ওই গ্রামের মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে।