যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ বেড়েছে।
বুধবার স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯২ ডলারে নেমে আসে, যা গত মার্চের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও কমে প্রায় ৪ হাজার ২১৬ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধি পেলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রূপার দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বর্ণের দাম যদি প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়, তাহলে বছরের শেষ নাগাদ তা ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।