ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন Tarique Rahman। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য Md. Mobashwer Alam Bhuiyan-এর প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন Hafiz Uddin Ahmed।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, আগামী ১১ জুন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বাজেট প্রণয়নের সময় ট্রেডার থেকে শুরু করে শিল্পোদ্যোক্তা, সব ধরনের ব্যবসায়ীর স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক দেশে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগের পরিমাণের ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন বা ইনসেনটিভ দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে Bangladesh Bank।
ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমানোর ফলে যদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতি উপকৃত হয়, তাহলে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য Begum Sabikun Nahar-এর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুল অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
রপ্তানি ও আমদানি সহজীকরণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, অশুল্ক বাধা দূর, এলসি ছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে আমদানির সুযোগ, মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে Bangladesh Investment Development Authority, Bangladesh Economic Zones Authority, Public-Private Partnership Authority এবং Bangladesh Hi-Tech Park Authority-কে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীরা একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমন্বিত সেবা পাবেন। এতে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমবে, সেবার দক্ষতা বাড়বে এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।