রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তামপাটে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা একটি টায়ার পাইরোলাইসিস কারখানার কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। ‘এমটি এন্টারপ্রাইজ’ নামক ওই কারখানায় রাতের আঁধারে টায়ার পুড়িয়ে তেল ও কয়লা উৎপাদন করায় এলাকাটি এখন বিষাক্ত ধোঁয়ার জনপদে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১জুন) সরেজমিন ওই এলাকাঘুরে অন্তত ২০জন বাসিন্দা ও ৫জন কৃষকের সাথে কথা হয়েছে প্রতিবেদকের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সূর্যাস্তের পর থেকেই কারখানাটি চালু করা হয়। টায়ার পোড়ানোর প্রকট ও উৎকট গন্ধে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের জটিলতা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় ধোঁয়ার তীব্রতায় শিশুদের ঘরের মধ্যে আটকে রেখেও নিস্তার মিলছে না।
কারখানার কালো ধোঁয়া ও ছাই কেবল বাতাসের মাধ্যমেই ক্ষতি করছে না, তা সরাসরি পড়ছে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমিতে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ধোঁয়ার প্রভাবে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আম ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ছে এবং ফলনও আগের মতো হচ্ছে না। এছাড়া, কারখানার বর্জ্য আশপাশের জলাশয়ে মিশে যাওয়ার ফলে মাছের মড়ক দেখা দিচ্ছে এবং পানির ওপর কালচে স্তর পড়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা স্থাপনের কোনো নিয়ম না থাকলেও অবৈধভাবে এটি পরিচালিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই বিষাক্ত কারখানাটি লোকালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
টায়ার পাইরোলাইসিসের বিষয়ে জানতে বেগর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারুন আল রশীদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, টায়ার পোড়ানো ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক কার্বন মনোক্সাইড এবং সালফার ডাই-অক্সাইড থাকে, যা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও মরণব্যাধি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই এর জন্য প্রোপার নিয়ন্ত্র ব্যবস্থা না থাকলে উপকারের তুলনায় ক্সতিই বেশি।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আঃ সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আবাসিক এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী কারখানার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। দ্রুতই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামপাটের সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি—প্রশাসন যেন অতি দ্রুত এই দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।