রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বাড়ির অদূরে একটি পাটখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গত রোববার (২১ জুন) তারাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই শিশুটি গত শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয়রা ডালিয়া সেচ ক্যানেল-সংলগ্ন একটি পাটখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে তারাগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, জুমার নামাজের পর শিশুটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত মুজাহিদ ইসলাম তাকে কৌশলে পাটখেতের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার তদন্তে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুশান্ত কুমার রায়ের নেতৃত্বে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযুক্ত মুজাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।