উত্তরাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদ্যুতের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সময়মতো অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার পরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত একাধিক দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। অনেক কক্ষে কর্মকর্তা না থাকলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), লাইট ও ফ্যান চালু অবস্থায় ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক কর্মকর্তা সকালে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে উপস্থিতি নিশ্চিত করে আবার অফিস ত্যাগ করেন। ফলে দিনের বড় একটি সময় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জনসংযোগ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, সংস্থাপন শাখা, ট্রেজারি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর, প্রক্টর অফিস, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং অর্থ ও হিসাব পরিচালকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত অফিসে আসেন না। কেউ কেউ স্বল্প সময় অবস্থান করে চলে যান। এতে শিক্ষার্থী ও সেবাগ্রহীতাদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলেও অনেক কক্ষে সারাদিন এসি, লাইট ও ফ্যান চালু রাখা হয়। এতে সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বিদেশ সফরে থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান। তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, প্রক্টরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তবে সরেজমিনে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন কার্যালয়ও বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউই তার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দাবি করেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।