বার্ধক্য, অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক মুসল্লি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেন। তবে এ সময় একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়, কাতারে দাঁড়ানো মুসল্লিদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে চেয়ারের কোন অংশকে ভিত্তি ধরে অবস্থান নির্ধারণ করা হবে?
ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে নামাজ আদায়কারীর শারীরিক সক্ষমতার ওপর।
যদি কোনো ব্যক্তি দাঁড়াতে সক্ষম না হন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো নামাজ চেয়ারে বসে আদায় করেন, তাহলে কাতারে দাঁড়ানো মুসল্লিদের পায়ের রেখা বরাবর চেয়ারের পেছনের দুই পা রাখতে হবে।
অর্থাৎ, তার অবস্থান নির্ধারিত হবে চেয়ারের পেছনের অংশের ভিত্তিতে। এতে তিনি কাতারের অন্যদের থেকে সামনে এগিয়ে যাবেন না এবং কাতারের শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে।
যদি কোনো মুসল্লি কিয়াম বা দাঁড়ানো অবস্থায় নামাজ পড়তে সক্ষম হন, কিন্তু রুকু ও সেজদা চেয়ারে বসে করতে হয়, তাহলে তিনি কাতারের অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে সমানভাবে দাঁড়াবেন।
এ ক্ষেত্রে চেয়ারটি কিছুটা পেছনে রাখা উত্তম, যাতে দাঁড়ানো অবস্থায় তার পায়ের অবস্থান কাতারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
তবে চেয়ার পেছনে রাখলে যদি পেছনের কাতারের মুসল্লিদের চলাচল বা নামাজে অসুবিধা হয়, তাহলে চেয়ারের পেছনের পা কাতারের রেখা বরাবর রেখে নামাজ আদায় করতে পারেন।
আলেমরা বলেন, চেয়ারে বসে নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের এমনভাবে অবস্থান নেওয়া উচিত, যাতে কাতারের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন থাকে এবং অন্য মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা না হয়।
শরিয়তের নির্দেশনা মেনে সঠিকভাবে কাতারে অবস্থান করলে জামাতের ঐক্য ও ইবাদতের সৌন্দর্য দুটোই রক্ষা পায়।