কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি
সবশেষ আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
৪৯
জন সংবাদটি দেখেছেন
ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদে পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিকেল ৩টায় ২৫ দশমিক ০৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে তালুক শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলার পানি ছিল ৩০ দশমিক ০০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিকেল ৩টায় ২৮ দশমিক ৮৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এটি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ২৪ দশমিক ৬১ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২২ দশমিক ০২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। উভয় পয়েন্টেই পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
এদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিকেল ৩টায় ২৯ দশমিক ০০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতও হয়েছে। কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৫২ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৫৫ মিলিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ১০ মিলিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টার খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
তিনি আরও বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।