বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর আবারও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান টুর্নামেন্টের সমীকরণ অনুযায়ী, দুই দল নিজেদের পথ ধরে এগোতে পারলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে লাতিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী লড়াইগুলোর একটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। তবে বিশ্বকাপের আসরে দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে।
চলমান আসরে আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে জয় পেলে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখবে আলবিসেলেস্তেরা। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল, যেখানে উরুগুয়ে এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও হাইতির বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ছন্দে ফিরেছে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে অন্তত ড্র করতে পারলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত করবে সেলেসাওরা। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।
টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, দুই দলই যদি নিজেদের নকআউট ম্যাচগুলো সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে বহু প্রতীক্ষিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা লড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ জুন ইতালির তুরিনে। সেই ম্যাচে কিংবদন্তি ফুটবলার Diego Maradona-র অসাধারণ পাস থেকে Claudio Caniggia একমাত্র গোলটি করেন। তাতে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে সেটিই এখন পর্যন্ত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার একমাত্র মুখোমুখি লড়াই। ফলে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে পুরনো সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইবে ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনা চাইবে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে শিরোপার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তাই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য এই সেমিফাইনাল হতে পারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি।