ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল গুগল, কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
সবশেষ আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
৪৯
জন সংবাদটি দেখেছেন
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট আগে তারা গুগলের জরুরি সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তাদের ভাষ্য, সময়মতো এই সতর্কবার্তা পাওয়ায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তীব্র সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। ফলে তিনি দ্রুত ঘরের বাইরে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
আরেকজন লিখেছেন, হাজার হাজার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাক্সিলোমিটার সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গুগল একটি বৈশ্বিক ভূমিকম্প শনাক্তকারী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা আগাম সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম।
গুগলের Android Earthquake Alerts System বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে একটি বিশাল ভূমিকম্প শনাক্তকারী নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহার করে।
প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাক্সিলোমিটার সেন্সর ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন বা সিসমিক তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। কোনো এলাকায় একাধিক ফোন একই ধরনের কম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগলের সার্ভারে পাঠানো হয়।
এরপর বিভিন্ন ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের অবস্থান, সম্ভাব্য মাত্রা এবং কম্পনের বিস্তার নির্ধারণ করা হয়। শক্তিশালী কম্পন পৌঁছানোর আগেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
২০২১ সালে চালু হওয়া এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল এমন দেশগুলোতে আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া, যেখানে ব্যয়বহুল ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই সেবা প্রায় ১০০টি দেশে চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত সিস্টেমটি ১৮ হাজারের বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে এবং ২ হাজারের বেশি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৯০ মিলিয়ন সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এর ফলে আগাম ভূমিকম্প সতর্কতার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা ২০১৯ সালের প্রায় ২৫ কোটি থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৫০ কোটিতে পৌঁছেছে।
তবে ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঠিক কতজন এই সতর্কবার্তা পেয়েছেন বা এর মাধ্যমে কত প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।