বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে কিছু পরিসংখ্যান আছে, যা কেবল সংখ্যার খেলা নয়, বরং ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও হয়ে ওঠে। এবার ঠিক তেমনই একটি রেকর্ড গড়ে ব্রাজিলের কোটি সমর্থকের হৃদয়ে নতুন করে শিরোপার স্বপ্ন জাগিয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়স জুনিয়র।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস। এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে এমন কীর্তি গড়লেন তিনি।
আর এখানেই আশার আলো দেখছেন ব্রাজিল সমর্থকরা। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, এর আগে যখনই ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড় গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন, তখনই শেষ পর্যন্ত শিরোপা উঠেছে সেলেসাওদের হাতেই।
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তি Jairzinho গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছিলেন। সেই আসরে ব্রাজিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
এরপর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে Romário একই কীর্তি গড়েন। ফলাফল, ২৪ বছর অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল।
২০০২ সালে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছিলেন Ronaldo Nazário ও Rivaldo। দুজনই গ্রুপের তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন। সেই আসরেও পঞ্চম ও সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতে নেয় ব্রাজিল।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই তালিকায় যোগ হলো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম।
| বিশ্বকাপ | খেলোয়াড় | ফলাফল |
|---|---|---|
| ১৯৭০ | জাইরজিনহো | চ্যাম্পিয়ন |
| ১৯৯৪ | রোমারিও | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০০২ | রোনালদো | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০০২ | রিভালদো | চ্যাম্পিয়ন |
| ২০২৬ | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র | ? |
এই পরিসংখ্যানই এখন ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস। বিশেষ করে স্কটল্যান্ড ম্যাচে তার গতি, ফিনিশিং ও আক্রমণভাগে আধিপত্য ব্রাজিলকে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস।
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি এখন ব্রাজিলের অন্যতম ভরসার নাম। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর পাঁচটি বিশ্বকাপ কেটে গেলেও শিরোপার দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে এবার দলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং ইতিহাসের ইতিবাচক পরিসংখ্যান ব্রাজিল সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে।
ফুটবলে ইতিহাস সবসময় পুনরাবৃত্তি হয় না। কিন্তু অতীতের প্রতিটি উদাহরণ যদি একই দিকে ইঙ্গিত করে, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের মতো কি এবারও গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে গোল করা একজন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের হাত ধরেই বিশ্বকাপ ট্রফি উঠবে ব্রাজিলের হাতে?
উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে আপাতত ইতিহাসের পাতায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম লিখে গেছে আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ই ব্রাজিলের কোটি সমর্থককে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ জয়ের।