সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনব্যাপী সংঘাতের মধ্যেই আরও উন্নত ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ তথ্য জানান। দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ খবর প্রকাশ করেছে।
আকরামিনিয়া বলেন, বেশ কয়েকটি সমরাস্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আগে থেকেই চলছিল। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন প্রযুক্তির কিছু ড্রোনও ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চলাকালেই এসব ড্রোন কার্যক্রমে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলাম।”
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সক্ষমতাও আরও উন্নত করা হয়েছে।
আকরামিনিয়া বলেন, “আমরা বিদ্যমান অস্ত্র ব্যবহার করেছি, তবে একই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছি।”
তার ভাষ্য, ইরান বর্তমানে দেশীয়ভাবে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি বন্ধুসুলভ দেশগুলো থেকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে।
সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুদ্ধের শেষ দিকে উন্মোচিত আরাশ-২-এর মতো ড্রোনগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। এসব সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, এই উন্নয়ন ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের দাবি, ওই অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিন ধরে পাল্টা হামলা চালায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে তেহরানের দাবি।