সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

আড়াই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৪৭ জন সংবাদটি দেখেছেন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যথাযথ তদারকি না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ও ভাঙা ইট ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সমায়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএন্ডএইচ সড়ক ভায়া শুটিবাড়ি রাস্তার সংস্কারকাজ চলছে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা। তবে ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় নীলফামারী সদর উপজেলার মসজিদপাড়া এলাকার মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ওপর রাবিশ মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া দিয়ে বেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশের রেজিংয়ের কাজে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে তদারকিতে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের কাজ শুরু হলেও যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর মান খুবই খারাপ। এভাবে কাজ করলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না। সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

মোটরসাইকেল চালক রাসেল মিয়া বলেন, বর্তমানে যে উপকরণ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া কোনো সুফল মিলবে না।

স্থানীয় মমিনুর রহমান, খোরশেদ আলম, আয়নাল হক ও জাকির হোসেনসহ একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এক নম্বর খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ মিশ্রিত খোয়া এবং রেজিংয়ের কাজে ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির নীলফামারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। মূল কার্পেটিংয়ের আগে ব্যবহৃত খোয়ার গুণগত মানও পরীক্ষা করা হবে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com