পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধে চাচা হত্যা: প্রধান আসামি ইউপি সদস্য জলিল গ্রেপ্তার
সবশেষ আপডেট :
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
৪৪
জন সংবাদটি দেখেছেন
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কফিল উদ্দিন (৬৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল জলিল (৪৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-১৩ জানায়, রোববার (২৮ জুন) রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব মৌচাক কাঁচাবাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল জলিল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহত কফিল উদ্দিনের ভাতিজা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কফিল উদ্দিনের পৈতৃক ৬৬ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিকদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। পরে কফিল উদ্দিন জমিটি স্থানীয় কৃষক আতাউর রহমানকে বর্গা চাষের জন্য দেন।
গত ২৮ এপ্রিল সকালে আতাউর রহমান জমিতে ধান কাটতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। বাধার কারণ জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কফিল উদ্দিন ঘটনাস্থলে গেলে প্রধান আসামি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় কফিল উদ্দিনের স্ত্রী জুলেখা বেগম স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলায় আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই কফিল উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম বাদী হয়ে গত ১ মে ২০২৬ গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-১৩-এর সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং র্যাব-১-এর গাজীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে গোয়েন্দা নজরদারি চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।