উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সময়ে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় বীজতলা, পাট ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ প্রায় ২০৪ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দুধকুমার নদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। সময়মতো সংস্কার না হওয়ায় রোববার বিকেলে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।
ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রামসহ নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন জানান, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি মেরামত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা এবং এক হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তাই দ্রুত বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।