বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং দলগত ফুটবলের কারণে জাপানকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
নিচে তুলে ধরা হলো ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় পাঁচটি সতর্কতার কারণ।
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের হাই-প্রেসিং। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে তারা দ্রুত বল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। এতে ব্রাজিলের স্বাভাবিক বিল্ড-আপ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে।
কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে জাপান দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পরিচিত। ব্রাজিলের ফুল-ব্যাকরা আক্রমণে উঠে গেলে তাদের পেছনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারে জাপানের উইঙ্গাররা। কম বলের দখল নিয়েও ম্যাচ জয়ের সামর্থ্য ইতোমধ্যে তারা দেখিয়েছে।
জাপান সাধারণত নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণের পথ সংকুচিত করে। এতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লুকাস পাকেতা কিংবা অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
জাপানের ৩-৪-২-১ ফরমেশন ব্রাজিলের আক্রমণভিত্তিক সিস্টেমের বিপক্ষে কার্যকর হতে পারে। তিন সেন্টার-ব্যাকের কারণে রক্ষণে বাড়তি নিরাপত্তা তৈরি হয়। একই সঙ্গে মাঝমাঠে অতিরিক্ত খেলোয়াড় থাকায় ব্রাজিলের আক্রমণের গতি কমে যেতে পারে।
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। তারা কোনো একক তারকার ওপর নির্ভরশীল নয়। ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে খেলা একাধিক ফুটবলার থাকায় দলটি ট্যাকটিক্যালি পরিণত এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলাতেও অভ্যস্ত।
ইতিহাস, স্কোয়াডের গভীরতা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতায় ব্রাজিল এগিয়ে। তবে নকআউট ফুটবলে ছোট একটি ভুলই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। জাপানের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং দলগত বোঝাপড়া ব্রাজিলের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তাই এই ম্যাচে সেলেসাওদের জিততে হলে নিজেদের সেরা ফুটবলই খেলতে হবে।