ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে হামলা চালাতে সক্ষম মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ করছে তার দেশ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করতে এ সক্ষমতা অর্জনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৩০ জুন) সামরিক বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কাটজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি যৌথভাবে এমন একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের সেরা মেধাবীদের কাজে লাগিয়ে মহাকাশে হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।
তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত কোনো দেশই পূর্ণাঙ্গভাবে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। ইসরায়েল এই প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হতে চায়।
কাটজ বলেন, এই সক্ষমতা অর্জন করা গেলে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, আঘাত হানা এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা আরও সহজ হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও তিনি মহাকাশভিত্তিক হামলার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়ে ইসরায়েলের অঙ্গীকারের কথা বলেছিলেন। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তিনি মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
ইসরায়েল ইতোমধ্যেই স্থলভিত্তিক ‘আয়রন বিম’ লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের সক্ষমতা তৈরির প্রকল্প নিয়েও কাজ চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কাটজের বক্তব্যে মূলত ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও মহাকাশ কর্মসূচির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় হামলাও চালায় ইসরায়েল।
তবে কাটজের এই দাবি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কারণ রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই স্যাটেলাইট ধ্বংসে সক্ষম অ্যান্টি-স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে লেজার প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং মহাকাশে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।