রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা যাহের আলভী, তদন্তে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়ার দাবি
সবশেষ আপডেট :
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
৬১
জন সংবাদটি দেখেছেন
রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুই দিনের রিমান্ড শেষে আলভীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে দাবি করেন তিনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
শুনানির সময় আলভীকে এজলাসে তোলা হলেও তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা মামলায় আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না, তা লিখিতভাবে জানাতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। বিচারক বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে জানার কথা বলেন।
পরে বিচারক আলভীর কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি মাথা নেড়ে ‘না’ বলেন। রিমান্ডে কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না জানতে চাইলে আলভী জানান, তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।
এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন যাহের আলভী। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে ২১ জুন ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে ২৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আলভীর স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।