কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গত ১৫ দিনে অন্তত ১৯টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় দুই শতাধিক পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার তীব্র ভাঙন চলছে। নদীতে পানি কিছুটা কমলেও স্রোত ও বাতাসের কারণে ভাঙনের গতি আরও বেড়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে জমি ও বসতভিটা।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাফি বলেন, “চোখের নিমিষে বাড়িভিটা নদী খায়া গেল। চারটা ঘর কোনো রকমে সরিয়ে নিয়েছি। তিনটি আমগাছ আর একটি জামগাছ কাটার আগেই নদীতে চলে গেছে। এই শোক সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ভাঙার তিন দিন পরই আমার বাবা মারা যান।”
স্থানীয় জয়নাল ও মাঈদুল ইসলাম জানান, গত দুই সপ্তাহে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের অন্তত ১৯টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে বাদাম, আমন ধানের বীজতলা, মরিচ, পাট, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও নদীগর্ভে চলে গেছে।
তৈয়বখাঁ গ্রামের রোস্তম আলী বলেন, জীবনে এটি তার পঞ্চমবারের মতো নদীভাঙনের শিকার হওয়া। এবারও আড়াই বিঘা জমির পাট ও আমনের বীজতলা হারিয়েছেন। অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আবদুল জলিল জানান, ভাঙনের মুখে রয়েছে পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে।
নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার তিস্তাপাড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে মাঈদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুল হকসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩০টি স্থানে দুই লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা বাজেট না থাকায় সেখানে এখনো প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।