চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক রোডম্যাপ তৈরি করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, রোডম্যাপ অনুযায়ী এ বছরের অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়ে আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।
তিনি বলেন, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে স্কুলভিত্তিক বই পড়ার কর্মসূচি চালুর কথাও জানান তিনি। প্রাথমিকভাবে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ১৬ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, কোথাও না কোথাও সমস্যা রয়েছে বলে সরকার স্বীকার করছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে নতুন করে অর্থ পাচার বন্ধে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও বর্তমানে এটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে সমাজে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. জাহেদ জানান, আগামী ৫ আগস্টের আগেই ‘জুলাই জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে।
আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, দলটির বিরুদ্ধে যেসব মামলার বিচার ও সাজা হয়েছে, সেসব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।