জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আশিক ও প্লাম্বার মাইকেলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে মুরগিটোলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাত বাসার পানির লাইন মেরামতের জন্য প্লাম্বার মাইকেলকে ৫০০ টাকা দেন। কাজ শেষ হওয়ার পর মাইকেল অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। রাহাত তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাইকেল তার জুতা নিয়ে চলে যান। পরে জুতা ফেরত চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এসে রাহাতকে মারধর করেন। এতে রাহাতের মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে তার সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের আটক করার সময় কিছু শিক্ষার্থী তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করা হয়।
লাঠিচার্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লিমন ইসলামসহ অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত রাহাতকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং উত্তেজনা বিরাজ করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দীন বলেন, অভিযুক্তদের পুলিশ আইনের আওতায় নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুনেম বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মীর মুহাসীন।
এডিসি মীর মুহাসীন বলেন, উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থী বাঁশ নিয়ে পুলিশের দিকে ধেয়ে এলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।