বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবের্তো মার্টিনেজ। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পর্ব থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৫২ বছর বয়সী মার্টিনেজ।
তিনি বলেন, “আমি পর্তুগালে এসেছিলাম বিশ্বকাপ জিততে। সেটা সম্ভব হয়নি। তাই আমার মনে হয় দায়িত্বে থাকার আর কোনো অর্থ নেই। এখানেই আমার পথচলার সমাপ্তি।”
মার্টিনেজ জানান, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল পর্তুগালের কোচ হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। একই সঙ্গে সোমবার তার চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কোচ নিয়োগের দায়িত্ব এখন পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের ওপর বর্তাবে।
বিদায়ী কোচ বলেন, “একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। এখন দলের জন্য নতুন একটি কণ্ঠ প্রয়োজন। নতুন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঞ্চার নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোচ নির্বাচন করার পূর্ণ সুযোগ থাকা উচিত।”
দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেও পর্তুগালের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন মার্টিনেজ।
তিনি বলেন, “পর্তুগালে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। এখানকার মানুষ আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছে, তা কখনও ভুলব না। জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি আনন্দেরও ছিল।”
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি মার্টিনেজ। বরং তিনি রোনালদোর নেতৃত্ব ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।
মার্টিনেজ বলেন, “রোনালদো একজন আদর্শ অধিনায়ক। শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তার অবদান অসাধারণ। অনুশীলন, নিবেদন এবং পেশাদার মানসিকতায় সে অন্যদের জন্য উদাহরণ।”
স্পেনের বিপক্ষে পরাজয় নিয়ে হতাশা থাকলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন পর্তুগালের বিদায়ী কোচ।
তার ভাষায়, “আমরা সাহসী ফুটবল খেলেছি। রক্ষণ ও আক্রমণ দুই বিভাগেই ভালো চেষ্টা করেছি। তবে নকআউট ম্যাচে অনেক সময় ছোট ছোট মুহূর্তই পার্থক্য গড়ে দেয়। একটি সুযোগ বা একটি ভুলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।”
২০২৩ সালের শুরুতে ফের্নান্দো সান্তোসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পর্তুগালের দায়িত্ব নেন মার্টিনেজ। তার অধীনে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল পর্তুগাল। এছাড়া ২০২৫ সালে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জেতে দলটি।
তবে বিশ্বকাপ জয়ের মূল লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোর পরাজয়ের মধ্য দিয়েই পর্তুগাল জাতীয় দলের ডাগআউটে রবের্তো মার্টিনেজের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।