২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে একের পর এক বিতর্কের মধ্যে এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ জন সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এ দাবি উঠেছে।
গত ১ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। পরে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে জানায়, নিষেধাজ্ঞাটি এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।
এ সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপের মুখেই ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুস, লারা ওলটার্স এবং নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা “লজ্জাজনক” এবং “ন্যায়বিচারের পরিপন্থী”।
তাদের ভাষায়, “আবারও দেখা গেল, ইনফান্তিনো ও ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছে।”
আইনপ্রণেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে ফিফার এথিক্স কমিটিকে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, দুটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী কি না।
এর আগে ফিফা জানায়, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ডিসিপ্লিনারি কমিটির এবং এতে ফিফা সভাপতির কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছিল না।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে দেওয়া চিঠিতে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৩৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। তাদের বক্তব্য, খেলাধুলার মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সমতা। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যদি কোনো খেলোয়াড়কে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে সেই ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।